দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রংপুরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় শহর রংপুরসহ প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবারের এই ঐতিহাসিক সমাবেশ সফল করতে মাত্র একদিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে বিশাল প্রস্তুতি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবীব দুলু।
তিনি বলেন, 'রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সম্পূর্ণ নির্বাচনী বিধিমালা মেনে এই কর্মসূচি পালন করব। দীর্ঘ ২০ বছর পর নেতার আগমনে মানুষের মধ্যে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে পুরো শহরই সে দিন লোকারণ্য ও জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি।'
রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে দুলু বলেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবি 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়ন করা হবে।'
এছাড়া তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, 'বন্ধ হয়ে যাওয়া স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফেরাতে 'অর্থনৈতিক অঞ্চল' চালুকরণ করা হবে।'
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে দুলু বলেন, 'আমরা জামায়াতের সাথে কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়াতে চাই না। আগামী নির্বাচনে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে অংশ নিতে চাই। পার্টির চেয়ারম্যান বার বার বলেছেন- গণমাধ্যম একটি জাতির স্তম্ভ। যদি কোনো নেতাকর্মী সাংবাদিক নির্যাতনে বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবীব দুলুর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন, রংপুর-২ এ মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ এ শামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ ও গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ ও সাইফুল ইসলাম এবং জেলা ও মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এলওয়াই/এমএ