কক্সবাজার জেলায় একদিনে চার জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। জবাই করে হত্যা করা হয়েছে এক নারীকে। অজ্ঞাত পরিচয়ে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার পৃথক সময়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ও টেকনাফে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে, বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের মনুপাড়ায় মোটরসাইকেল আরোহি কক্সবাজার সিটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাসিব (১৭) মারা গেছেন। ওই শিক্ষার্থী চৌফলদন্ডী বাজারপাড়ার রবিউল আলমের ছেলে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি-অপারেশন মো. বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, রাসিব নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে কক্সবাজারে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে এসে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা দেন। এতে ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত হয়ে আহত হন। ওই পরিস্থিতিতে রাসিব মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, রক্ত দেখে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। মরদেহ এখনও কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এ ঘটনায় আহত পথচারিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীতে নিজ বাড়ির নলকূপের পাশে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বিবি আমেনা (৪৫) নামে এক নারীকে। নিহত নারী কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ঘোনারপাড়ের মোহাম্মদ শহিদুলের স্ত্রী।
আমেনার কন্যা (নাম জানা যায়নি) জানিয়েছেন, দুপুরে খাবার খেয়ে নলকূপে পানি নেওয়ার সময় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এসময় তার কপালে আঘাত এবং গলায় ছুরির চিহ্ন লক্ষ্য করেন। প্রতিবেশীরা দ্রুত আমেনাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেন, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়।
নিহতের স্বামী শহিদুল বলেন, “আমি বাসায় ছিলাম না। আমার ছেলে-মেয়ে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমাকে কল দেয়। আমি হাসপাতালে এসে স্ত্রীর মরদেহ দেখি।”
কক্সবাজার সদর থানার ওসি-অপারেশন মো. বাবুল মিয়া জানান, হত্যার প্রাথমিক কারণ জানতে পুলিশ পরিবারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতা করছেন।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বাঁকখালী নদীর প্যারাবন থেকে অনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, স্থানীয়দের ৯৯৯ নম্বরে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, এই ব্যক্তির মৃত্যু কয়েকদিন আগে হতে পারে। মরদেহে সোয়েটার ও লুঙ্গি পরিহিত, মুখ, কান, ও কাঁকড়ায় খেয়ে ফেলা চিহ্ন রয়েছে এবং রক্ত বের হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে টেকনাফের স্থলবন্দর এলাকার পাহাড় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, মরদেহটি অনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী একজন যুবকের হতে পারে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।
এসইউ/আরএন