দেশের দায়িত্ব পেলে আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মুক্তি নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জন্য নয়; এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অনৈতিক প্রভাব ও কৃত্রিম সংকট আর থাকতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় অংশ নিতে জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। পরে বেলা ১২টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগান ও হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী বছরের পর বছর রাষ্ট্রের সম্পদ, বাজারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সুযোগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অন্যায় ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর কাউকে পুরোনো অন্যায়ের পথে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো সিন্ডিকেট নতুন করে মাথাচাড়া দিতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নয়। এই রাজনীতি মানবিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আদর্শ, সততা ও নৈতিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তরুণ সমাজই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি। তরুণদের দায়িত্বশীল ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
জনসভায় উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার শফিউল আলম প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, গাজী নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
এছাড়া ১১টি শরীক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই জনসভা শেষে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এমজেডআর/আরএন