ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের বুধন্তি গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদীর তট কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ভূমি খেকোদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নদীর জায়গার মাটি এক্সেভেটর দিয়ে কেটে এক ডজন ট্রাক্টরে করে ইট ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরে শত কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাই নদী খনন করা হয়। খননকৃত মাটি নদীর দুই পাড়ে নদীর জায়গাতেই রাখা হয়েছিল। নদী খননের ফলে বর্ষাকালে পানি উপচে পড়লেও ফসলের ক্ষতি কমে, যা কৃষকদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে বর্তমানে একশ্রেণীর ব্যক্তি নদীর তট কেটে সেই মাটি বিক্রি করে ব্যক্তিগত ভাবে মোটা অংকের টাকার লাভবান হচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর জায়গার মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে নদীতে অল্প পানিতেই নদী উপচে পড়ে ফসল ডুবিয়ে নষ্ট করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ কার্যক্রমে বাধা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, পার্শ্ববর্তী গ্রামের কেনার হেবজু মিয়ার ছেলে বাবরু মিয়া ও তার লোকজন এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে বাবরু মিয়া বলেন, 'উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার তাকে ম্যাপে জায়গাটি নিজস্ব দেখিয়েছেন, সে কারণেই তিনি মাটি কাটছেন।'
তবে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মনসুর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'তিনি কাউকে ওই জায়গা ম্যাপে দেখাননি এবং মাটি কাটার কোনো অনুমতিও দেননি। এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।'
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গার মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে মুঠোফোনে জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার ও দায়সারা ভূমিকা পালন করছেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এসআর/এমএ