বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতি করতে গিয়ে পৈতৃক ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয়েছে, কিন্তু আদর্শের সঙ্গে আপস করা হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতা পেলে কেউ যদি ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দুর্বৃত্তায়ন শুরু করে, তবে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। “আওয়ামী লীগ যা করেছে, আমরা তা করব না,” মন্তব্য করেন ফখরুল।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও ও চেরাডাঙ্গী এলাকায় গণসংযোগের তৃতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দলের কেউ অপরাধ করলে তা জানাতে হবে এবং তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “আওয়ামী লীগ যে পাপ করেছে, বিএনপির গায়ে সেই কলঙ্ক লাগতে দেব না,” যোগ করেন তিনি।
ফখরুল স্মরণ করেন, গত ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১বার জেল খেটেছেন। জেল জীবনের সময়ে স্ত্রীর অস্ত্রোপচারও হয়েছে, কিন্তু তাতে মুক্তি মেলেনি। তবুও তিনি মাথা নত করেননি।
এবারের নির্বাচনি ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন ফখরুল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একাত্তরে এই মার্কা আমরা দেখেছি। তারা পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য করেছিল। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
ভোটারদের উদ্দেশে তার পরামর্শ— জামায়াত এ অঞ্চলে পরিচিত নয়, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যেন ঐতিহাসিক সত্যটি মাথায় রাখা হয়।
হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, হিন্দু ভাই-বোনেরা ভয় পাবেন না। আপনারা নিজেরা শক্ত হোন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার অধিকার আপনাদের আছে। গণতান্ত্রিক দেশে কেন নির্যাতনের শিকার হতে হবে? আসন্ন নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্ভয়ে বুথে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিকে ‘মুক্ত বাতাস’ হিসেবে বর্ণনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন আর হানাহানির সময় নেই। ওরা (আওয়ামী লীগ) মামলাবাজি করেছে বলে আমাদেরও তা-ই করতে হবে, এমনটা ভাববেন না। এটা কোনো আপস নয়, বরং এক নতুন ভ্রাতৃত্ববোধের সমাজ গড়ার লড়াই।
এসআর