সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করলেও একটি রাজনৈতিক দল সব পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। অতীতের মতো এবারও ভোট ডাকাতি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি দল বারবার বলছে—‘এবার আমাদের দেখুন’। কিন্তু ১৯৭১ সালে লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, তখন তারা কার পক্ষে ছিল? যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদের নতুন করে দেখার কিছু নেই। একমাত্র পথ হলো জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং এমন সরকার গঠন করা, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলেন ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিতে যেতে হবে। আমি বলছি—এবার তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামাজ আদায় করে সকাল সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষই এ দেশের মালিক। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা না হলে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
বেকারদের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হবিগঞ্জ অঞ্চলে অনেক চা-বাগান রয়েছে। চা-বাগানের নারী শ্রমিক ও গ্রামাঞ্চলের অসহায় মা-বোনদের জন্য বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় পরিবারগুলো স্বচ্ছলভাবে চলতে পারবে। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থাও করা হবে।
কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সার, বীজ ও ওষুধ পাওয়া যাবে এবং কৃষিঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। ধানের শীষে ভোট দিলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। জনসভায় লাখো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এমএইচ/আরএন