টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের। সেখানে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের বিবেচ্য বিষয়। বৈঠকে ক্রিকেটারদের জানানো হয়েছে-কোন কোন কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চাচ্ছে না।
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আমি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই ভারতে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি বিবেচনা করার দায়িত্ব সরকারের। অন্য কারও এ বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ নেই।
বিশ্বকাপে না গেলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেললে বাংলাদেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। মাথানত করে, নিজের দেশের মানুষকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করে শুধু খেলোয়াড় নয়-দর্শক ও সাংবাদিকদেরও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সেটিও ভাবা উচিত।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দল আইসিসির কাছ থেকে সুবিচার পাবে এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি বিবেচনা করে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্বকাপে খেলা বাংলাদেশের অধিকার-এই আশাবাদ নিয়েই তারা অপেক্ষা করছেন।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তা ব্যক্তিগত। তাদের কোনো বক্তব্য আমি সাংবাদিকদের জানাব না। তারা চাইলে নিজেরা বলতে পারে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল-কেন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাদের বোঝানো। আমার মনে হয়েছে, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। বৈঠকে তারা কী বলেছেন, তা প্রকাশ করার অধিকার আমার নেই।
আরএন