নাটোরের সিংড়ায় রেজাউল করিম (৫৩) নামের এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ১১টায় উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষক রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর কর্মী বলে জানা গেছে।
তবে ঘটনার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার আব্দুল ওহাবের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ওই আগুনে মুদি দোকানি আব্দুল ওহাবের মা ছাবিহা বেওয়া (৭৫) মারা যান। আগুনে টিনের তৈরি সাতটি ছাপরা ঘরও পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নুর মোহাম্মদ আলীসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার।
অপরদিকে একই দিনে বেলা ১২টার দিকে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। এছাড়া বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজ।
এ বিষয়ে নিহতের ভাতিজা ও কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপন মুঠোফোনে জানান, তার চাচা বাজার থেকে বাসায় ফিরে এশার নামাজ ও খাবার শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল করিম ও আলাউদ্দিন মুন্সিসহ তাদের বাহিনী তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তার চাচার সঙ্গে এলাকার কারও কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর পক্ষে শিক্ষক সমাজকে একত্রিত করার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, এ নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে নিজেরাই বাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দ্রুত তার চাচার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত শিক্ষক জিয়া পরিষদের নেতা এবং ধানের শীষের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও বিএনপি পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের গলা ও মুখমণ্ডলে একাধিক কুপের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এসআই/আরএন