ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
খুলনা খাদ্য বিভাগে নতুন বস্তার নামে পুরানো বস্তা কিনে দুর্নীতির অভিযোগ
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
X

খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে বস্তা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন বস্তার সাথে পুরানো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে। 

অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরানো নিম্নমানের বস্তা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্যগুদামে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। 

তবে খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহকৃত নতুন বস্তার সাথে কিছু পুরানো বস্তা সরবরাহ করেছিল ঠিকাদার। শনাক্ত হওয়ার পর ৮ হাজার পুরানো বস্তা রিপ্লেস করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা খাদ্য বিভাগের জন্য নতুন বস্তার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর তা মহেশ্বপাশা খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে বস্তা বুঝে নিয়ে বিভিন্ন গুদামে সরবরাহ করা হয়। 

এর মধ্যে রূপসা উপজেলার আলাইপুর খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির বস্তা ৫০ হাজার পিস, ৩০ কেজির বস্তা ১০ হাজার পিস, তেরোখাদা উপজেলার খাদ্য গুদামে ৫০ কেজির বস্তা ৩০ হাজার পিস, ৩০ কেজির বস্তা ১০ হাজার পিস, ডুমুরিয়া খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির ৫০ হাজার পিস, ৩০ কেজির ২০ হাজার পিস। ফুলতলা খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির ৫০ হাজার পিস, ৩০ কেজির ২০ হাজার পিস বস্তা দেয়া হয়। 

এছাড়াও, মংলা সাইলো এবং মোংলা পোর্টে জাহাজ থেকেও এই পুরাতন বস্তা খাদ্যশস্য বস্তাজাতের অনুপযোগী বলে ৫০ কেজির ২৫ হাজার পিস ও ৩০ কেজির ১০ হাজার পিস ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, 'বস্তার গায়ে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ' সম্বলিত শ্লোগান আলকাতরা দিয়ে মুছে দেয়া। এছাড়াও বস্তার গায়ে উৎপাদন সাল ২০২২ লেখা রয়েছে। 

সূত্র জানায়, তিন মাস আগে টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হয়, সেটি বর্তমান ডিসি ফুডের আমলে। কমিটির প্রধান ছিলেন ফুলতলার পিসিএফ জাকির হোসেন। যিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে খুলনার সহকারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছিলেন। এ কার্যাদেশ পায় মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশন। এই পুরাতন বস্তা ক্রয়ে আর্থিক ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। 

জানা গেছে, বর্তমানে নতুন ৩০ কেজির বস্তায় সরকারি দর প্রতি পিস ৫০ টাকা। অথচ পুরাতন বস্তার দর ১৮/২০ টাকা প্রতি পিস। ৫০ কেজির বস্তা ক্রয়ে সরকারি দর প্রতি পিস ৯০ টাকা। অথচ পুরাতন বস্তার প্রতি পিসের দাম ৩৮/৪০ টাকা।

এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি খালিদ হোসেন বলেন, '২ লাখ নতুন বস্তা কেনার নামে কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। নতুন বস্তার আড়ালে কেনা হয়েছে পুরানো ব্যবহৃত ও নিম্নমানের বস্তা। এসব বস্তায় খাদ্য সংরক্ষণও ঝুঁকিপূর্ণ।'

জানতে চাইলে মহেশ্বরপাশা খাদ্যগুদামের ম্যানেজার টিসিএফ মোশাররফ হোসেন বলেন, 'সর্বশেষ ২ লাখ বস্তা হাতে পেয়েছি। সকল বস্তা দেখে বুঝে নেয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ প্যাকেট কাটতে হয়। কাটার পর ওই বস্তা অন্য গুদামে পাঠানো সমস্যা হয়। তাই ১০-১৫ শতাংশ দেখে বুঝে নেয়া হয়। আর শর্ত থাকে, কোনো সমস্যাযুক্ত বস্তা শনাক্ত হলে রিপ্লেস করে দিতে হবে। এ অবস্থায় তেরোখাদা গুদামে পাঠানো ২০ হাজার পিস বস্তার মধ্যে ৮ হাজার পিস পুরানো বস্তা পাওয়া যায়। যা ভিডিও করে রেখে সরবরাহকারীকে জানানো হয়। এরপর ওই বস্তা রিপ্লেস করা হয়।'

খুলনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, 'তেরখাদায় কিছু পুরানো বস্তা পাওয়া যায়। যা সরবরাহকারীকে জানানোর পর বদল করে নতুন বস্তা পাওয়া গেছে।'

তিনি বলেন, 'এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। যা শর্ত অনুযায়ী সরবরাহকারী সমাধান করেন। কারণ, নিয়মিত নতুন বস্তার দরপত্র হয়। এতো বস্তা একসাথে দেখে বুঝে নেয়া কঠিন। তাই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বস্তা দেখে সমস্যা সমাধান করা হয়।'

এসএম/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝