রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন।
নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রার্থী প্রতীক হাতে পেয়েই আগাম প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তারা ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
বুধবার দিনব্যাপী বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেন।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী (লাঙল), জামায়াতের রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর আহসানুল আরেফিন (কাঁচি), ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস (মোমবাতি)।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মন্ডল (লাঙল), বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী (হাতপাখা) ও জেএসডির আজিজুর রহমান (তারা)।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় পার্টির জিএম কাদের (লাঙল), বিএনপির সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা), জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা), বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী (হরিণ), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর আনোয়ারা হোসেন বাবলু (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান (সূর্যমুখী)।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান (লাঙল), এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে সর্বাধিক ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এস এম ফখর উজ জামান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব (কেটলি), সিপিবির আবু হেলাল (কাস্তে), আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুল বাছেত (ঈগল), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর বাবুল আক্তার (কাঁচি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান (ডাব)।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া (লাঙল), জামায়াতের নুরুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা), আমার বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ (ঘোড়া), খন্দকার শাহিদুল ইসলাম (ফুটবল) ও তাকিয়া জাহান চৌধুরী (সূর্যমুখী)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের নির্বাচন বিধিমালা মেনে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রংপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এলওয়াই/আরএন