বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে মাছ কম পাওয়া ও বনদস্যুদের তাণ্ডবে দুবলারচরের শুঁটকিকরণ জেলেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সমুদ্রে মাছ না পাওয়ায় আলোরকোলে মাছ শুকানোর শূণ্য মাচা এখন খাঁ খাঁ করছে। ফলে জেলেদের পাশাপাশি মুটকি প্রক্রিয়াজাতকারী মহাজনদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।
বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে দুবলার আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোঃ মোতাসিম ফরাজী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সাগরে তেমন মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। যে মাছ পাচ্ছেন, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানী খরচও উঠছে না।
তিনি বলেন, আলোরকোলের মাছ শুকানোর মাচা মাছের অভাবে এখন খাঁ খাঁ করছে। তাছাড়া সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। প্রায়শই দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি করছে। দস্যুদেরকে মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে হচ্ছে। এ সব কারণে জেলে ও মহাজনদের মুখে হাসি নেই। সব জেলে ঋণগ্রস্থ হয়ে আছেন। ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করবে শুঁটকি জেলেরা সে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এবারের শুঁটকি মৌসুম ভালোভাবে শুরু হলেও বর্তমানে হঠাৎ করে জেলেরা সাগরে মাছ কম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন। অপরদিকে, বনদস্যুরা বেপরোয়া ভাবে জেলেদের উপর হামলা চালাচ্ছে ও তাদের ধরে নিচ্ছে। ট্রলার ও নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গেলে দস্যুরা ধাওয়া করছে। দস্যু দমনে পূর্বের মতো র্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযান জোরদারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, বর্তমানে জেলেরা সাগরে তেমন মাছ পাচ্ছেন না। জেলেরা মাছ না পাওয়ায় বনবিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে জানিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এসএস/আরএন