যশোরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন উভয় পক্ষের দুইজন।
প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় (ঢাকার হাসপাতালে) মৃত্যুবরণ করেছেন। এর আগে, রফিকুলকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত পলাশ (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হন।
নিহত রফিকুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত পলাশ একই গ্রামের মেলো মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে যশোরের চৌগাছা থানাধীন শলুয়া কলেজের সামনে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে রফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। রফিকুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পলাশকে ধরে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, কুপিয়ে জখম করা রফিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিকুল ইসলামও মৃত্যুবরণ করেছেন।
একই ঘটনায় দুজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, জমি বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এসকেআর/এসআর