নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছাদের ও মূল গেটের চাবি দিতে বাড়ির মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ উপস্থিত ছিলেন।
ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে; যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন। আর বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।
এতে বলা হয়, বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্যকালেকশনসহ অনন্যা সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা দ্রুত সেই সমস্যা সমাধান করবেন।
ডিএনসিসি জানায়, ভাড়াটিয়াও মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রসিদ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ সংগ্রহ করবেন।
এদিকে, ডিএনসিসি এলাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। এ নির্দেশনার একটিতে বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর তা বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই। দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না।
ডিএনসিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুই বছর পর মানসম্মত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে। নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সব বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করবেন এবং ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয়পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ি ভাড়ার বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না। বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
ডিএনসিসি জানায়, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন। যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড বা জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
ডিএনসিসির ওই নির্দেশনারও বলা হয়, ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি কর্পোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করা হবে বলেও এতে জানানো হয়।
এমএ