ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সরকারি খাস জমি, পাহাড় ও নদী থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানান, একসময় উর্বর পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত বিজয়নগর উপজেলা দিন দিন সেই বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। পাহাড়পুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উর্বর পাহাড়ের লাল মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজয়নগরের ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পত্তন, বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ভূমিখেকো শ্রেণী কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাঠের টপসয়েল কেটে বিক্রি করছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তারা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো “দেখব” বলে আশ্বাস দিলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বদনটি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদী ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হলেও বর্তমানে সেই নদীর বিভিন্ন অংশ পুনরায় ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর ওপর ও পাশের সরকারি খাস খতিয়ানের জমি কেটে মাটি ব্রিকফিল্ডসহ বিভিন্ন ভরাট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। নদী ভরাটের বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তাৎক্ষণিক ভাবে কিছু স্থানে কাজ বন্ধ করা হলেও রাতের আঁধারে পুনরায় মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা পুনরায় জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদীর পশ্চিম পাড় থেকে খাস খতিয়ানের জমিসহ টপসয়েল কেটে দিনের আলোতেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। ওই মাটি হাইওয়ে সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে, ফলে ধুলাবালিতে পথচারী ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। রাতের বেলায় এসব মাটি পার্শ্ববর্তী মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইসলামপুর গ্রামের আসাদ মুন্সী ও তার সহযোগীরা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এদিকে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিজয়নগরের পাহাড়, নদী ও কৃষিজমি স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসআর/এমএ