পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর এলাকায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী একটি ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করেছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দস্যুরা ৫ লাখ টাকা জেলেদের মুক্তিপণ দাবি করেছে।
অপরদিকে তিনদিন আগে সুন্দরবনে অপহৃত দুই জেলে লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়ে গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারী) সকালে শেলারচরে ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর থেকে অপহৃত জেলেদের মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী রামপালের নুরুল হক শেখ মোবাইল ফোনে বলেন, শনিবার (১৭ জানুয়ারী) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার ৮ জন জেলে সুন্দরবনের শেলারচরের কালামিয়া এলাকায় মাছ ধরছিলো।
এ সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী একটি নৌকায় করে এসে তার জেলেদের মারধর করে ৩ জেলেকে অন্য একটি নৌকায় উঠিয়ে দিয়ে ৫ জেলেকে ট্রলারসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে জেলেদের কাছে দস্যুরা তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়।
অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। জেলেদের বাড়ী বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকায়।
এ ঘটনার তিনদিন আগে (১৫ জানুয়ারী) সুন্দরবনের দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত দুই জেলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়ে রবিবার সকালে শেলারচরে ফিরে এসেছে।
ফিরে আসা জেলেরা হচ্ছেন শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের আঃ কাদের (৩৫) ও খোন্তাকাটা গ্রামের রবিউল মোল্লা (৩০)।
বনদস্যুদের কবলে জিম্মীদশা থেকে ফিরে আসা জেলেদের মহাজন পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মস্লুইস এলাকার শহিদ নাজির মোবাইল ফোনে বলেন, তার দুই জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের দেওয়া দুইটি বিকাশ নম্বরে শনিবার (১৭ জানুয়ারী) বিকেলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হলে রাতে দস্যুরা জিম্মী জেলেদের একটি নৌকায় উঠিয়ে ছেড়ে দেয়।
জানতে চাইলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছেনা। দস্যুদের দমন করা না গেলে এ বছর দুবলার রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম শেলারচরে ৫ জেলের অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএমএস/এসআর