উচ্চ আদালত ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনার পরও অবৈধ ভাবে কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে নীলফামারীর জলঢাকায়। আর সেই জমির মাটি যাচ্ছে ইটের ভাটায়।
সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জলঢাকার খুটামারা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মুন্সিপাড়া ও রাজারহাটসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি থেকে অবৈধ ভাবে ট্রলি দিয়ে টপসয়েল কেটে ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে মাটি, বালু ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কারও নজরদারী না থাকায় তারা অনেক বেশী ‘বেপরোয়া’ হয়ে উঠেছে। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র।
এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনকে জানালে মেলে দায়সারা উত্তর আসতেছি, দেখতেছি, দেখব অথবা ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের নীরবতায় কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নিকট একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার এসবের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটিখেকোরা প্রকাশ্যেই এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে।
যদিও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ট্রলি ও ভেকু দিয়ে দিন-রাত চলে কৃষি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব।
এদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে বিভিন্ন জায়গা থেকে একের পর এক ফসলি জমি থেকে ট্রলি দিয়ে মাটি বিক্রি করায় হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমি থেকে অবৈধ ভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে কৃষি জমিগুলো থেকে মাটি বিক্রির ফলে কাঁচা সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণের।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ট্রলি লাগিয়ে কৃষি জমির উপরিভাগের টপসয়েল কেটে বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর এই মাটি পরিবহনের কারণে কাচাঁ সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়কগুলোয় শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাঁদা হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, 'আমি কিছু জানিনা।'
এদিকে মাটি ব্যাবসায়ীর লোকজন বলেন, 'আপনারা যা পারেন করেন।'
একই এলাকার বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেখান থেকে মাটি কাটছে সেই জায়গাটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। জমিটি একটু উচু হওয়ার কারণে জমিতে পানি থাকে না ও ফসল ভালো হয় না তাই একটু মাটি কেটে নিচু করছি যাতে পানি থাকে ও ফসল ভালো হয়। আমরা বিক্রি করছি না।
পথচারী জাকির বলেন, 'এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানালেও তারা নিরব। কাঁচা সড়কগুলোতে ট্রলি চলার কারণে সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা চলাচলের অনুপযোগী।'
এ বিষয় খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাকে এই বিষয়ে কেউ জানায়নি তাই আমি কিছু বলতে পারবোনা।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, 'প্রতিদিন কোথাও না কোথাও থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।'
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নায়িমুজ্জামান বলেন, 'কোথায় বালু, মাটি উত্তোলন ও বিক্রি হচ্ছে আমায় ঠিকানা লিখে দেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন ও বিক্রিকারীদের কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।'
এইচএস/এমএ