পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মধ্যে অসন্তোষের গুঞ্জন অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বিলুপ্তের খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
কিন্তু তা অসত্য দাবি করেছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু নিজেও সংগঠন বিলুপ্তির খবরটি অসত্য বলে জানিয়েছেন।
ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও জেএসএস এমএন লারমার একাধিক সূত্রের তথ্য বলছে, আর্থিক অস্বচ্ছতা, ক্ষমতার অসামঞ্জর্স্যপূর্ণ ব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, মাদক ব্যবসা, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে মূলত সাংগঠনিক ভাবে ৫-৬ মাস ধরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ চলছিল। এসব কারণে সাংগঠনিক ভাবে কোণঠাসা ও নেতৃত্বে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় চাপে ছিলেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু।
এছাড়া, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় থাকায় সেখানে যাতায়াতের সুবিধার্থে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিনের মিত্র জেএসএস এমএন লারমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিপক্ষ জেএসএস সন্তু গ্রুপের সাথে গোপন আঁতাত প্রকাশ এবং নিজ সংগঠনে কোণঠাসা হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে দল বদল করেন শ্যামল কান্তি চাকমাসহ ৩০ জন।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের তথ্য বলছে, গেল বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী এলাকায় দল বদল করেন তারা। এ সময় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সশস্ত্র বিভাগের অনেক সদস্য অস্ত্র-গুলিসহ ছিল।
এদিকে, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমার নামীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোষ্ট ও বিভিন্ন আইডি থেকে পোষ্টে দল বদল, মিত্র সংগঠন জেএসএস এমএন লারমার সাথে বিরোধ ও সংগঠন বিলুপ্তির বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে শ্যামল বলেন, 'ইউপিডিএফ তার নামে আইডি বানিয়ে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।'
তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যাননি এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বিলুপ্ত হয়নি বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মুঠোফোনে জানান, বিভিন্ন অনিয়মে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দল বদল করেছেন শ্যামল কান্তি চাকমা। গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংগঠন পরিচালনা হবে এবং শীঘ্রই সংবাদ মাধ্যমে বার্তা দেয়া হবেও।
এদিকে জেএসএস এমএন লারমা কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য সেলের প্রধান জুপিটার চাকমা বলেন, 'ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সম্পূর্ণ ভিন্ন সংগঠন। তাদের অভ্যন্তরে কী চলছে তা আমরা জানিনা। তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সাথে জেএসএস এমএন লারমার মিত্র সম্পর্ক এখনও অটুট আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেএসএস এমএন লারমার কয়েকজন নেতাকে নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা অসত্য।'
এনএম/এমএ