ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দেওয়ার পর দুই ডাকাতকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দী এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। গণধোলাইয়ের শিকার দুই ডাকাতকে সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক। রবিন মিয়া উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং ফারুক চেঙ্গাকান্দী এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ডাকাতরা গাড়ির দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করে তারা ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছে। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর মহাসড়কের ডাকাতিপ্রবণ এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করে। বুধবার রাতে ডাকাত দলের তিন সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩) নম্বরের একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সি নিয়ে মৃধাকান্দী এলাকায় পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ডাকাতদের ব্যবহৃত সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মুহিবুল্লাহ জানান, অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ/আরএন