হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ইজারাবহির্ভূত জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে এক যুবককে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক্টর ও ১০টি মেশিন এবং বেশ কিছু পাইপ জব্দ করা হয়।
বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত মো. অলিউর রহমান সোহাগ (৩০) চুনারুঘাট পৌরসভার মধ্য-আমকান্দির বাসিন্দা।
বুধবার উপজেলার রাণীগাও ইউনিয়নের পাচারগাঁও এলাকায় করাঙ্গী নদীসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক মেশিন ও গাড়ি জব্দ করা হয়। অভিযানে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
ওইদিন সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের বাঁশতলা/কোটবাড়ি, ইছালিয়া, জারুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ও নদীসংলগ্ন এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) করাঙ্গী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় সোমবার রাতে চুনারুঘাট থানায় নয় জনের নাম উল্লেখ করে অবৈধ ভবে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদেরকেও দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হবে মর্মে থানা সূত্রে জানা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, 'পরিবেশ ও নদী রক্ষায় অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও সরেজমিনে তদন্তক্রমে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।'
জেএ/এমএ