হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। পৌষের শেষ প্রান্তে যেন মাঘের হাড়কাঁপানো শীত আগাম জানান দিচ্ছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। যদিও ভোরে সূর্যের দেখা মিললে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, তবে দিনভর হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা অনুভব করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। জীবিকার তাগিদে নদীর বরফশীতল পানিতে পাথর উত্তোলন ও কৃষিকাজে বের হতে দেখা গেছে অনেককে। এতে বোঝা যায়, জীবিকার কাছে হার মানছে শেষ পৌষের দাপটও।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ভোর ৬টায় ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি। সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত শুক্রবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ টানা এক সপ্তাহ ধরে ৮ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে তাপমাত্রার পারদ।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের হালকা কুয়াশা ভেদ করে জেগে উঠছে পূর্বাকাশের সূর্য। সূর্যের আলো কিছুটা উষ্ণতা দিলেও হিমেল বাতাসে তা দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীত থেকে বাঁচতে ভোর, সকাল ও রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যায় অনেককে। জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে পাথর ও চা শ্রমিকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ আলী, হোসেন আলী ও আব্দুল আজিজ জানান, এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে পৌষ ও মাঘ মাসের ঠান্ডায় মানুষের নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়। পৌষের শেষভাগে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় হাত-পা কুঁকড়ে যায়, অবশ হয়ে আসে। রাতে মনে হয় তাপমাত্রা যেন শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। এতটাই ঠান্ডা যে টিনের চালের ওপর বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। তবুও কাজ না করলে পরিবার চলে না, তাই বাধ্য হয়েই বাইরে বের হতে হয়।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা এবং ঠান্ডা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, জেলায় কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার ওঠানামা চলছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৯ দিন ধরে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এসকেডি/আরএন