নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩ ইউপির সদস্যকে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ (সচিব) ৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নোয়াখালীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬নং আমলী আদালত বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কামরুল হাসান (৩২), ভাবৈয়াপাড়া গ্রামের সুয়া মিয়ার ছেলে নুর হোসেন (৩০) ও মিয়াপুর গ্রামের মফিজ উল্যার ছেলে মাসুদ রানাকে (৩২) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর ৪ আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি বারগাঁও ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু জাহিদ স্বপন নোয়াখালী চিপজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. ওমর (৩২), নুর হোসেন (৩০), মির হোসেন বাদশা (২৬), আসুদ রানা (৪২), কামরুল হাছান (৩২), মিজানুর রহমান পলাশ (৩৮), ওমর ফারুক ভূইয়া (৪৮), মাহফুজুর রহমান ফরহাদ (৩৫) বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহরে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কামরুল হাসান তাকে ও অন্যান্য ইউপি সদস্যকে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে ফোনে অনুরোধ করেন। বেলা আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের গেটে পৌঁছামাত্র বিবাদীগন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে আবু জাহিদ স্বপন, ইউপি সদস্য ইকবাল মাহমুদ ফরেন্স ও পলাশ ভূইঁয়াকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ইকবাল মাহমুদ ফরেন্সকে উদ্ধার করলেও অপর দুজনকে বিভিন্ন জনমানবহীন স্থানে ফেলে রেখে যায়।
অপহরণের সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পেছনে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুল হাসানের সরাসরি ষড়যন্ত্র ছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করার নির্দেশ দিলে পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত কালে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ১৩ জানুয়ারি আদালতে হাজির হলে সাত আসামির মধ্যে চারজন জামিন পান এবং তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার প্রধান আসামী বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করা হয়। মামলার আইনজীবী এ্যাড: রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তারের নাম্বরে একাধিকবার কল করা হয়, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এনএইচ/এসআর