চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পৃথক অভিযানে ৯টি ব্যবসা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মোট ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে বিএসটিআই’র অভিযানে ২টি প্রতিষ্ঠানে পৃথক হারে মোট দেড় লাখ টাকা এবং সকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৭টি প্রতিষ্ঠানে এক লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার বিকালে হাজীগঞ্জ বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন বিএসটিআই’র কুমিল্লা অফিসের কর্মকর্তারা। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ইউনিক লাইভ বেকারী ও মিনহাজ ফুডস নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথক হারে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান।
এর মধ্যে, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ব্যতীত বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণের অপরাধে মিনহাজ ফুডসকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ইউনিক লাইভ বেকারীকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিএসটিআই’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে বিএসটিআই’র কুমিল্লা অফিসের ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম শাকিল, মো. রাজিব ফকির এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. শামস তাবরেজসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অপর দিকে, সেনাবাহিনী ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাজীগঞ্জ বাজারে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়। অভিযানে ৭টি প্রতিষ্ঠানে পৃথক হারে মোট এক লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
এর মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায়, পঁচাবাসী খাবার সংরক্ষণ এবং অসাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির অপরাধে হাজী সুইটসকে ৫০ হাজার, নবাবী হোটেলকে ১৫ হাজার, রিজিক হোটেলকে ৫ হাজার, মেয়াদ উত্তীর্ণ সস ব্যবহারের অপরাধে খাওয়া দাওয়া হোটেলকে ৩০ হাজার, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণের অপরাধে মিডওয়ে ফার্মেসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি বেশি নেওয়ার অপরাধে হাজীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালকে ৮ হাজার এবং মিথ্যা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করার অপরাধে দেশ ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে ৭টি প্রতিষ্ঠানে মোট এক লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় এই ধরনের অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোক্তা অধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে চাঁদপুর জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নজরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্প ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এইচইউ/আরএন