নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘলকুর্শা গ্রামের মাইজপাড়া মহল্লায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত একটি রাস্তা বদলে দিয়েছে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নিজ অর্থায়নে প্রায় ৩শ মিটার রাস্তা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মল্লিক।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে মাইজপাড়া মহল্লায় চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা ছিল না। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি ও পানির কারণে যাতায়াত হয়ে উঠত দুর্বিষহ। অসুস্থ রোগী পরিবহন, শিশুদের স্কুলে যাতায়াত কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া—সবই পড়ত চরম ভোগান্তির মধ্যে।
এ পরিস্থিতিতে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৩ ফুট উঁচু একটি মজবুত রাস্তা নির্মাণ করেন রিপন মল্লিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এই রাস্তা নির্মাণের ফলে মল্লিক পরিবারের শাহজাহান মল্লিক, বাহাউদ্দিন মল্লিক, শামীম উদ্দিন মল্লিক ও সুমন মল্লিকসহ একই মহল্লার অন্তত ২১টি পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা—ইসলাম উদ্দিন, রবিকুল ইসলাম, এখলাছ মিয়া ও মাসুদ মল্লিক—জানিয়েছেন, নতুন রাস্তা হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদে ও সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলও সহজ হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
রিপন মল্লিক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মহল্লার মানুষ কষ্টে ছিল। সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বললেও দ্রুত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই নিজের সাধ্যমতো সবার সুবিধার কথা ভেবে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, রাস্তা নির্মাণে মাসুদ মল্লিক, আব্দুল হেলিম ভুঁইয়া, আব্দুল ওহাব, বাবুল মিয়া ও মাইন উদ্দিন জমি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
এলাকাবাসী রিপন মল্লিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে এমন মানবিক কাজ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। পাশাপাশি তারা গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ভূমিকার দাবিও জানান।
মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে দীঘলকুর্শা গ্রামের মাইজপাড়া মহল্লার এই রাস্তা, যা শুধু ইট-পাথরের নয়, মানুষের স্বস্তি ও সম্ভাবনার পথও।
এইচকে/আরএন