পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)-এর ১০৭তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বনভান্তের জন্মদিন উপলক্ষে প্রথম প্রহরে রাজবন বিহারে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয় এবং ওড়ানো হয় হাজারো বেলুন। রঙিন আলো, ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয় বিভিন্ন ভবনসহ রাজবন বিহার চত্বর। বনভান্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে ভিড় জমান হাজারো পুণ্যার্থী। আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে অংশ নেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে রাজবন বিহারের গোটা প্রাঙ্গণ।
জন্মদিন উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মোরঘোনা জন্মস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিহারে এই আয়োজন পালিত হচ্ছে। ভোরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মহতি ধর্মীয় পুণ্যানুষ্ঠান। এ সময় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্মীয় নির্দেশনা দেন রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
ধর্মীয় আলোচনা সভায় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পবিত্র বাণী স্মরণ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের জীবনের সকল পাপ মুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং পার্বত্য এলাকার শান্তি অব্যাহত রাখার মনোবাসনা মহান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে নিবেদন করেন।
এদিকে রাজবন বিহারে ভিক্ষু সংঘের পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, পুষ্প পূজা, মোমবাতি প্রজ্বালন ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে বনভান্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্তরা। বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। পরে মহাস্থবির বনভান্তের জন্মদিন উপলক্ষে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ সারিবদ্ধভাবে রাজবন বিহারে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষিত বনভান্তের পেটিকাবদ্ধ দেহধাতুতে (বিশেষ কফিন) ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।
এ সময় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো বৌদ্ধ নর-নারী ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। এতে করে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার আরও মুখরিত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, শ্রামণবুদ্ধ বনভান্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি শহরের দক্ষিণে মগবান ইউনিয়নের মোরঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের পুনর্জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এরপর থেকে তাঁর মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থায় রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কফিনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার আদর্শ আজও সবার জন্য অনুপ্রেরণা।
বর্তমানে বনভান্তের মরদেহটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে পেটিকাবদ্ধ (বিশেষ কফিন) অবস্থায় রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে রাখা হয়েছে। তাঁর জন্মজয়ন্তীর স্মরণে সপ্তাহব্যাপী রাঙ্গামাটি শহরজুড়ে মহাধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এসআই/আরএন