সুন্দরবনের জেলে ও পর্যটকদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক বনদস্যু বাহিনী প্রধান মাসুম মৃধাকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড। সে সময় তার সহযোগী ইফাজ ফকিরকেও আটক করা হয়।
বুধবার রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন কৈলাশগজ্ঞ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা।
উদ্ধার করা হয় তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা ও একটি স্টিল পাইপ।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, 'গত ০২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দু'জন পর্যটকসহ রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ বনদস্যু মাসুমের বিরুদ্ধে অনেক জেলেদের জিম্মি করার অভিযোগ রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে আরও কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্রসমূহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে।'
কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা বলেন, 'কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় বনদস্যুকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।'
তিনি বলেন, 'তাদের অভিযানে বনদস্যু আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী এবং রাঙ্গা বাহিনীকি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে কোস্ট গার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
তবে সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি, কৌশলগত অবস্থানে নতুন স্টেশন স্থাপন, দ্রুতগামী স্পিডবোট সংযোজন এবং আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির বৃদ্ধি করা অতীব প্রয়োজন বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।
এসএম/এমএ