দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো চাষিরা। আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরো ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বোরো চাষিদের কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছেন, কেউ লাঙল বা কোদাল দিয়ে জমি চাষ করছেন, আবার কেউ মই দিয়ে বীজতলা সমান করছেন। অনেক চাষিকে অঙ্কুরিত ধানের বীজ বীজতলায় ছিটাতে দেখা গেছে। সাধারণত বীজতলার জন্য নিচু জমি ও খালপাড়ের জমি নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
কৃষকেরা জানান, আগেভাগে বীজ বপন করলে ধানের চারা সতেজ ও সবল হয় এবং আগাম বীজতলার চারা রোপণ করলে ফলন ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের কৃষক জমিস উদ্দিন জানান, তিনি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন। একই গ্রামের কৃষক চিত্র মোহন রায় জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য আগেই বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো চারা ভালো হয় এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
এ বছর উপজেলায় ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৫৮, ৮৮, ৮৯, ১০০ ও ১০২ জাতের বীজ ধানের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকেরা।
কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মো. জাহিদুর রহমান বলেন, কৃষকদের ভালো মানের বীজ বপনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকেরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী বীজ ক্রয় করছেন। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কৃষকেরা বীজতলা তৈরির কাজ অনেকটাই শেষ করেছেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই বোরো ধানের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হবে।
এমজে/আরএন