বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দল মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুনসহ সারাদেশের বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুলবশত ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে তার বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।
এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, ইসহাক চৌধুরী মামনুনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার স্থগিতের ঘটনাটিও সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
নেতাকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মূলত মামনুনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর আগে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে বিচার প্রার্থনাও করেন।
এ বিষয়ে ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন বলেন, তার বহিষ্কারের কারণ তিনি আগেই জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মতো কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। বরং কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার অসাধু দাবি সমর্থন না করা ও এর প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি সম্ভবত একমাত্র ব্যক্তি যিনি বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে দলের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা সেচ্ছাসেবক দলের তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়। তবে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এসআর