ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগে চা শ্রমিকরা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
X

কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে মৌলভীবাজার জেলায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জেলার সর্বত্র স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চা অধ্যুষিত এই জেলায় শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন চা শ্রমিক ও তাদের শিশু সন্তানরা।

জেলার ৯২টি চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খোলামেলা পরিবেশে বসবাস এবং নামমাত্র মজুরিতে জীবনযাপন করায় এই তীব্র শীত তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবারের নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা পাতলা কাপড়েই ঠকঠক করে কাঁপছেন।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সোমবার ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।

টানা শীতের দাপটে শহর ও গ্রামাঞ্চলে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। শহরের নিম্নআয়ের মানুষরাও কম কষ্টে নেই। ভোরে কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, দিনমজুর ও ফুটপাতের দোকানদারদের জন্য প্রতিদিনের জীবন যেন এক মহাযুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন চা বাগানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে পাতা ভেজা পথে কাজের জায়গায় পৌঁছাতেই চা শ্রমিকদের ভোগান্তি শুরু হয়। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারী শ্রমিকরাই পড়ছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

চা শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তীব্র শীত তাদের নিত্যদিনের কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। সকালে কাজে বের হওয়াটাই হয়ে উঠেছে কষ্টসাধ্য। লাগাতার শীত যেন তাদের প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, সকাল ৬টায় রাজশাহী জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, সকাল ৬টার দিকে দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ৫টি বিভাগের ওপর শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

আরএ/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝