ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী এখন অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও বালু সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ অসংখ্য গ্রামে রাতদিন শতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে স্থানীয়দের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এতে ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, নাসিরাবাদ বালুমহাল ২০২৫ সালের জন্য ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছে মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স। কিন্তু ইজারাদার সরকারি নিয়ম মানছেন না। বরং রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এই বালু ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার শতাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই বালুমহালকে ঘিরে চলে সশস্ত্র পাহারা। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার জীবন হুমকির মুখে পড়ে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা অর্ধশত ড্রেজারে ফসলি জমির তীর ঘেষে বালু উত্তলন চলতেই থাকে।
জানা যায়, গত দু'মাস আগে নবীনগর থানার সদ্য সাবেক ওসি শাহিনূর ইসলাম পরিবার নিয়ে মেঘনা নদীতে বেড়াতে গেলে বালু মহলের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় কোন রকমে প্রাণে বাঁচেন ওসি ও তার পরিবার। এসময় ওসির সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন নবীনগর পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান নূরে আলম সহ আরো অনেকেই। এ ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আরো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মেহেদি হাসান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনই ঐক্যবদ্ধ না হলে চরলাপাং, মানিকনগরসহ আশপাশের গ্রামগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, বালুমহালের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে তার কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসপি/ এসআর