জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই ধরা পড়ে একমাত্র পুত্রের হার্টের ছিদ্র। এরপর থেকে চিকিৎসার ব্যয় বহন করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে শিশু আদিয়াত। অপারেশনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৪ লাখ টাকা। অর্থের অভাবে সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে না পেরে দিশেহারা বাবা-মা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মুসলিমনগর মধ্যপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন গার্মেন্টস শ্রমিক হযরত আলী ও গৃহবধূ আখি আক্তার দম্পতি। কিছুদিন আগে তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেন। বড় মেয়ের জন্মের ১৭ বছর পরে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ফুটফুটে এক ছেলে সন্তানের জন্ম নেয় তাদের সংসারে। এতে পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। তবে আদিয়াতের জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই তার হার্টে দু’টি ছিদ্র ধরা পড়ায় ওই পরিবারে নেমে আসে দুশ্চিন্তার ছায়া। ৬ মাস ধরে একমাত্র পুত্রের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকুরীও ছাড়তে হয়েছে বাবা হযরত আলীকে। হার্টে ছিদ্রের কারণে শিশু আদিয়াতের বুকে ঠান্ডা লেগেই থাকছে। অপুষ্ট ও দুর্বল দেহের কারণে আদিয়াত স্বাভাবিক খাবারও খেতে পারে না। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে। সারা রাত একটুকুও ঘুমায় না।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুতই অপারেশন করাতে হবে। অপারেশন করতে অন্তত চার লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে অর্থের অভাবে আদিয়াতের চিকিৎসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে যেন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু প্রহর গুনছে বাবা মায়ের যক্ষের ধন আদিয়াত।
আদিয়াতের বাবা হযরত আলী বলেন, ‘আমি গার্মেন্টসে কাজ করতাম। কিন্তু ছেলেটি অসুস্থ হওয়ায় কাজও করতে পারছি না। এর আগে তাকে নিয়ে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়েছে। ছেলের অপারেশন করাতে অন্তত চার লাখ টাকা দরকার। এ টাকা আমার পক্ষে কোনোভাবেই জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই ছেলের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
আদিয়াতের মা আখি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কখনোই ভাবি নাই আমার সন্তানের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হবে। আমাদের সহায় সম্পদ কিছুই নাই। অন্যের বাসায় ভাড়া থাকি। কখনো কখনো রান্নার চালও থাকে না। আমি ৪ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছিলাম। সেটারও চিকিৎসা করাতে পারছি না। আল্লাহর কাছে অনেক চাওয়ার পরে আল্লাহ আমাকে এই সন্তান দিয়েছে। এই সন্তানকে যদি বাঁচাতে না পারি তাহলে আমি মরেই যাব। ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রতিবেশীরা বলছেন, চিকিৎসকরা জানিয়ছেন অপারেশনের জন্য চার লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তাদের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। জন্মের পর থেকেই শিশুটি হার্টের সমস্যায় ভুগছে। এখন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা এলাকাবাসী যতটুকু পারছি সাহায্য করছি, কিন্তু এতো টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। দেশবাসীর কাছে আবেদন, আপনারা এগিয়ে আসুন শিশুটির জীবন বাঁচাতে।
প্রতিবেশীরা বলছেন, অসহায় এই পরিবারের একটাই আকুতি সমাজের দয়ালু মানুষগুলো যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো প্রাণ ফিরে পাবে শিশু আদিয়াত।
আর্থিক সহায়তা পাঠানোর বিকাশ (পারসোনাল) নম্বর: ০১৯৪১-৬০৫৭৩৩
এক্সিম ব্যাংক
পঞ্চবটি ব্রাঞ্চ (053)
একাউন্টের নাম : হযরত আলী
একাউন্ট নাম্বার : 0112004447446
এসএস/এসআর