সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম ও তার স্বজনরা।
রোববার বেলা ১১টা থেকে অনশন শুরু করেন তারা।
এ সময় ছেলের ‘হত্যাকারী’ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান রায়হানের মা সালমা বেগম।
তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধন একমাত্র ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে এই ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর ও তার সহযোগীরা। বর্বরোচিত ভাবে নির্যাতন করে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকারী এসআই আকবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার চাই। আর না হয়, আমি ফাঁড়ির সামনে থেকে যাবো না। আমার ছেলেকে মেরেছে, আমাকেও গুলি করে মারা হোক।’
নিহত রায়হানের মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকারী এসআই আকবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমি এখানেই অবস্থান করবো।’ এই কর্মসূচি কোন দলীয় কর্মসূচি নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে এই ফাঁড়িতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আজ ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে পুলিশ হেফাজতে থাকা আকবরের সহযোগীদেরও গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে না।’
গত ১১ অক্টোবর ভোর রাতে রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। পরে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
রায়হান ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন, পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ ধরে নিয়ে ফাঁড়িতে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত দল ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর সত্যতা পেয়ে জড়িত থাকায় ইনচার্জ আকবরসহ ৪ পুলিশকে বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করেন।
বরখাস্তরা হলেন, বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন। তবে ঘটনার পর অন্য ৬ জন পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আকবর পলাতক রয়েছেন।
পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ তদন্ত করছে পিবিআই। গত ১৪ অক্টোবর তদন্ত ভার পাওয়ার পর পিবিআই'র টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। গত ১৫ অক্টোবর মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়না তদন্ত করে পিবিআই।
নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ফরেনসিক রিপোর্টে। আর অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষণে রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দেন ৩ পুলিশ সদস্য- সাইফুল, দেলোয়ার ও শামীম। গত ২০ অক্টোবর পুলিশ লাইনে বরখাস্ত থাকা কনস্টেবল টিটুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।
তবে ঘটনার মূলহোতা সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া এখনো পলাতক রয়েছেন।
-এমএ