
সৌরজগতের মধ্য দিয়ে চলাচলের জন্য মহাকাশে একটি বিকল্প পথের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। তারা এই পথকে বলছেন সুপার-হাইওয়ে নেটওয়ার্ক। মহাকাশে এই পথে নভোযান অল্প সময়ে অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে। নভোযান অনেকটা গ্রহাণু এবং ধূমকেতুর মতোই কাজ করবে।
ইউসি সান ডিয়াগো গবেষকরা অনেকদিন ধরেই নতুন এই পথ নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি গবেষণাটি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন এই পথে রয়েছে পরস্পর সংযুক্ত কতগুলো দরজা। এই দরজাগুলো গ্রহাণু বেল্ট থেকে ইউরেনাস হয়ে অনেকটা দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই পথকে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘স্বর্গীয় পথ’ হিসেবে। মিলিয়ন বছরের যাত্রা সময় এই পথ কমিয়ে নিয়ে আসবে কয়েক দশকে। গবেষকরা দাবি করছেন, ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ যাওয়া যাবে এক শতাব্দীর চেয়েও কম সময়ে।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, এই পথে রয়েছে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় বল। এটি বৃহস্পতি পরিবারে গ্রহাণু এবং ধূমকেতুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই পথের অরবিটাল পিরিয়ড ২০ বছর যা অনেকটাই সেন্টাউর্স (সৌর প্রক্রিয়ার ছোটোখাট কাঠামো) এর মতো। সৌরজগতের মিলিয়ন মিলিয়ন অরবিট বা কক্ষপথ থেকে প্রাপ্ত সংখ্যাতাত্ত্বিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই গঠন সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তারা।
আবিষ্কারের আগে এই সুপার-হাইওয়ে অনেকটাই গোপন ছিল। বিজ্ঞানীরা তেমন কিছুই জানতে পারেননি। কিন্তু দীর্ঘদিনের গবেষণায় এর সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখন অনেকটাই জানেন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবীতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গ্রহাণু এবং উল্কাকে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম নতুন আবিষ্কৃত এই সুপার-হাইওয়ে। এমনকি এটি পৃথিবী-চাঁদ সিস্টেমে মানবসৃষ্ট কোনো বস্তুকেও নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। তবে গ্রহাণু, উল্কা কিংবা মানবসৃষ্ট কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে এই পথ কিভাবে সাড়া দেবে ,তা নিয়ে অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস
এসআর