জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হবে এ কর্মসূচি। শোভাযাত্রায় পায়ে হেঁটে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে এবার ব্যাপক পরিসরে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এ উপলক্ষে ৫ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। পরে তাঁরা ফাতেহা পাঠ করবেন।
বিকেলের শোভাযাত্রা শুরু হবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে। সেখান থেকে মিছিলটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছাবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। এ আয়োজন সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁরা স্মরণীয় একটি আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানান, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনসহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়েও মিছিলের আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনাসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ওই দিনের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী শক্তির পরাজয় ঘটেছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসএ