দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (২ নভেম্বর)।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতারটির জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন জাতীয় পরিচয়পত্রধারী সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন নবায়ন ফি বছরে ৪ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতারটির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং অটোরিকশার ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট ও যানবাহনের তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক দেওয়া হবে।
নতুন নিয়মে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হবে। যানবাহনের নকশা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। এর বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না।
মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর ও ফুটপাতে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোন সড়কে এসব যান চলতে পারবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। এক এলাকার জন্য নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করতে পারবে না।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে, যাতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে। প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।
বর্তমানে সড়কে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে নিবন্ধনের আগে এসব যানবাহনকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে। সংশোধনের পর ফিটনেস পরীক্ষা ও অনুমোদন সাপেক্ষে নিবন্ধন দেওয়া হবে।
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হলে যানবাহনটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। অনুমোদনহীন ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামোয় অননুমোদিত পরিবর্তন, নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, নতুন বিধিমালার শর্তগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে চলাচল করা অটোরিকশার মালিক ও চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পর চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এসএস