প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ‘জাতীয় যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন- “প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ‘জাতীয় যুব দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে। যুব সমাজই যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকট উত্তরণে ও দেশ মাতৃকার উন্নয়ন অগ্রগতিতে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য।
যুবশক্তির এই অসীম সম্ভাবনাকে অনুধাবন করেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরই দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয় যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিবর্তিত হয়। মাঠ পর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বিএনপি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুবদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যকে আরো বেগবান করতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তরুণদের জন্য কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেশের সকল জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা শুরু করেন, যা যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটায়। এরই ধারাবাহিকতায় সকল জেলায় পর্যায়ক্রমে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়ে যুব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের যুবদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। অধিদপ্তরটি এ পর্যন্ত ৮০ লক্ষাধিক যুব’কে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। যার মধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ যুব নিজেদের সফল আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তারা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে আরো অধিক অর্থ উপার্জন করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষিত যুবদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা যুব ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রকল্প স্থাপনসহ তাদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর আত্মকর্মী যুব ও যুব সংগঠকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার’ প্রদান করা একটি মহতী উদ্যোগ। এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন যুব আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এ বছরও যারা এই গৌরবময় পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন, আমি তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এই উপলব্ধি থেকে সরকারে এসেই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীগণ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সাথে সাথেই অনলাইন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়া ইমপ্যান্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের যুবসমাজকে আরো আধুনিক যুগোপযোগী ও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও ফুড প্রসেসিং, বিদেশি ভাষা শিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। তরুণদের নিজেদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও কারিগরি দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
তরুণ যুবকদের যেকোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট আপ ঘোষণা করেছে। কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ যাতে অর্থ সহায়তার অভাবে বিনষ্ট না হয়ে যায়, এ কারণেই বর্তমান সরকার দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্ট আপ বাজেট বরাদ্দ রেখেছে। ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ জাতীয় যুব দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যটিকে উপজীব্য করে যুব সম্প্রদায় অগ্রগমনে, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায়, দেশ ও জনগণের অগ্রযাত্রায় আরো বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
আমি ‘জাতীয় যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।”
টিআই