ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
চুয়েটে ৩৬ দিনের অচলাবস্থার অবসান, ১২ বিভাগের একটিতে ক্লাস শুরু
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২৬ ১২:৩৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো চলছে। দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে কেবল নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ক্লাস শুরু হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকও বন্ধ রয়েছে।


চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২১ সেপ্টেম্বর অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁরা। পরে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ আন্দোলনের কারণে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাও স্থগিত হয়।


আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।


শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের উপাচার্যকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁদের মতে, এ সংকটের সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার পথ তৈরি হবে।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রধান দাবি একটিই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে।


একই সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে অসহযোগিতা এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।


গত ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন।


একপর্যায়ে ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হলে উপাচার্যসহ ১১ জন সেখানে আটকা পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তোলে।


দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে ২৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠির মাধ্যমে ক্লাসে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই দিন শিক্ষক সমিতিও একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত জানায়।


২৬ অক্টোবর আন্দোলনকারীরা জানান, ২৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ক্লাসে ফিরলেও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে আসবেন না তাঁরা।


আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন প্রত্যাহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে কেবল নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ক্লাস শুরু হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়নি।


চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। কমিটির বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল,তা পূরণের কোনো চূড়ান্ত সমাধানের খবর পাওয়া যায়নি।


দীর্ঘ অচলাবস্থার পর সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হলেও চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখন সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং সব বিভাগে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর দিকে তাকিয়ে আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

   এফএস 

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝
Advertisement