কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট আগুন ২৪ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অব্যাহতভাবে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী গ্রামে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞ দল।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঢাকা থেকে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। আগুন নিজে থেকে নিভে না গেলে আপাতত তা নেভানো বেশ দুরূহ হবে।
বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল আরও জানিয়েছে, চাপ প্রয়োগ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে এর তীব্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আগুন নেভানো কঠিন। গ্যাসের নমুনা পরীক্ষার পর এর প্রকৃতি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ঝুঁকি মোকাবিলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইনানী বেওয়াচের পেছনে মো. আব্দুল্লাহর বাড়িতে গত তিন দিন ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খননের একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভূগর্ভ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে সেখানে অব্যাহতভাবে আগুন জ্বলছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন নেভাতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও ভূগর্ভ থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস নির্গত হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পানি ও বালি ছিটিয়েও আগুন নেভানো যায়নি। পরে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার পর সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় সামাল দিতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। এ সময় তাঁরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।”
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরাও সেখানে পৌঁছে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
এদিকে, আগুনের প্রকৃতি ও ভূগর্ভস্থ গ্যাসের বিস্তৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এফএ / এফএস