ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ মাহমুদ খলিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে জনমত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে পর্যালোচনা করতে তরুণ প্রজন্মের নেতাদের উৎসাহিত করেছে এই আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের পর প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরেন ৩১ বছর বয়সী খলিল। নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি ক্যাম্পাসে যান। সেখানে প্রায় ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন।
খলিল বলেন, ‘আমেরিকার জনগণ অবশেষে পরিবর্তিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদেরও সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে তারা।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাস থেকে তাঁকে এবং ফিলিস্তিনি কণ্ঠস্বরকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছিল।
২০২৪ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন খলিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের ৮ মার্চ মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই তাঁকে প্রায় তিন মাস আটক রাখা হয়। পরে ২০ জুন ২০২৫ তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভ দমনে নিউইয়র্ক পুলিশকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায়ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন খলিল। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
খলিলের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলেছে। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিকদের নির্বাচিত হওয়া এবং ক্ষমতাকাঠামোয় তাঁদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে মিশিগানে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেন।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভিন্নমতের মধ্যে যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, অনুসন্ধান ও সম্মানজনক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, কোনো বক্তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো মানেই তাঁর মতামতকে সমর্থন করা নয়।
দীর্ঘ আটক ও চলমান আইনি লড়াইয়ের ব্যক্তিগত প্রভাবের কথা তুলে ধরে খলিল বলেন, তাঁর সংগ্রামের একটি বড় অংশ হলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পার্কে যাওয়া এবং একজন তরুণ বাবার মতো জীবন কাটানো।
তবে নিজের লড়াইকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। খলিলের ভাষায়, এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের অধিকারও জড়িত।
এফএস