আইনজীবী এম হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীকার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে রায়’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননার মামলার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দুই আইনজীবী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এই দুই আইনজীবী। তারা হলেন হাসানুজ্জামান তুষার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি হয়। বিচারিক প্যানেলের সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে তাদের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় এদিন উপস্থিত হতে পারেননি। তার অনুপস্থিতির কারণে আদালত অবমাননার মামলাটির শুনানি না করে আজকের দিন ঠিক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হন আইনজীবী এম হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে দুজনকে সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
একইসঙ্গে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।প্রসিকিউশন জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেসবুকে ক্যাঙ্গারো কোর্টে রায় লিখে পোস্ট করেন আইনজীবী তুষার ও হাসান। তাদের পোস্টটি নজরে আসে ট্রাইব্যুনালের। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলার রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
ওই স্ট্যাটাসগুলো ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তার স্ট্যাটাসে ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে রায়কে ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন এবং রায় প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। ওই স্ট্যাটাসের মন্তব্যে অপর আইনজীবীও রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন।
এসব মন্তব্য আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে-এমন অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার আবেদন করে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।এর আগে চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
টিআই