কুমিল্লা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা গৌরীপুর-সাচার-কচুয়া-হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে হতাশা বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় পার হলেও মাঠপর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ ও জরিপের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার অংশে আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক বাঁক সরলীকরণ ও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথের দূরত্ব কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে তিন জেলার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তবে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
এ ছাড়া ঢাকাস্থ কচুয়া সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ডা. মো. আমিনুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ১৯ আগস্ট সিনিয়র সহকারী প্রধান মুহম্মদ শামীম কিবরিয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, গৌরীপুর-কচুয়া-হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্মীপুর জেলার জমি অধিগ্রহণের ব্যয় কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় প্রস্তাবটি সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধিত প্রস্তাবনা ঢাকার সড়ক ভবনে পাঠানো হয়েছে। সড়ক ভবন থেকে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটির চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করা হবে।
সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষের রাজধানীমুখী যাতায়াত সহজ হবে। কমবে ভ্রমণের সময় ও পরিবহন ব্যয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে জমি অধিগ্রহণ, ব্যয় সংশোধন ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চার লেন সড়ক বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন তিন জেলার মানুষ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
এফএস