শিল্পের মাধ্যমে স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিবেশের পরিবর্তন তুলে ধরতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিন শিল্পী। তাঁদের শিল্পকর্মে উঠে এসেছে হারিয়ে যাওয়া জনপদ, পরিবর্তনশীল নগরজীবন এবং সূর্যের নানা বৈশিষ্ট্য।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া তিন শিল্পী হলেন বাংলাদেশের সরকার প্রতিক, ভারতের রোহিণী দেবাশের এবং পাকিস্তানের শাহানা রাজানি।
‘দ্য স্কাই হেল্ড ইট, দ্য আর্থ রিমেম্বার্ড’ শিরোনামের প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে দুবাইয়ের ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতা করেছে হান নেফকেন্স ফাউন্ডেশন। গত ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পাকিস্তানের করাচিভিত্তিক শিল্পী শাহানা রাজানির ‘লাইনস দ্যাট ওয়ার্ল্ড আ রিভার’ শীর্ষক শিল্পকর্মে উঠে এসেছে সিন্ধু বদ্বীপের এমন কিছু জনপদের স্মৃতি, যেগুলো বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণের কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের আঁকা ছবির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম, বাড়িঘর, নৌকা, খাল ও মাজারের স্মৃতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পকর্মটি দেখিয়েছে, কীভাবে শিল্প মানুষের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া স্থান ও অতীতের স্মৃতির সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে পারে।
ভারতের শিল্পী রোহিণী দেবাশের ‘ল্যাটেন্ট ফিল্ডস’ শীর্ষক কাজের বিষয় সূর্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও সৌরঘটনা। সিল্কের তৈরি তিনটি বড় প্যানেলে অঙ্কন, আলোকচিত্র ও বিভিন্ন শিল্পপ্রযুক্তির সমন্বয়ে এমন কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
শিল্প ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি এই কাজ মানুষের পর্যবেক্ষণক্ষমতার সীমা নিয়েও ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের শিল্পী সরকার প্রতিকের ‘ঢাকা ১২১৭’ সিরিজে ফুটে উঠেছে রাজধানীর পরিবর্তনশীল নগরজীবন। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিজের জন্মস্থান ও বসবাসের এলাকার বিভিন্ন মুহূর্তে তোলা ১৩৫টি সাদাকালো আলোকচিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে সিরিজটি।
ছবিগুলোতে নগরায়ণের কারণে পার্ক, লেক ও সবুজ জায়গার পরিবর্তন, রেল অবকাঠামোর বিস্তার এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতিচিহ্ন উঠে এসেছে। পুরোনো ছবি, ধুলোমাখা বই কিংবা পড়ে থাকা চুলের মতো সাধারণ উপাদানের মধ্য দিয়েও সময়ের ছাপ তুলে ধরেছেন শিল্পী।
তিন শিল্পীর কাজের বিষয় আলাদা হলেও স্মৃতি, পরিবর্তন ও হারিয়ে যাওয়া জগতের চিহ্ন তাঁদের একই সূত্রে যুক্ত করেছে। এই প্রদর্শনী শিল্পের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে—শিল্প কি শুধু বাস্তবতাকে তুলে ধরে, নাকি হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও পরিবর্তনের চিহ্ন সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে?
দুবাইয়ের ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশনে প্রদর্শনীটি চলবে ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।