সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় ৩১ দিন ধরে নেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এ ছাড়া গত চার মাস ধরে শূন্য রয়েছে ওসি তদন্তের পদও। ফলে থানার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুর হোসেন ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জগন্নাথপুর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শফিকুল ইসলাম। এরপর নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে তাঁকে অন্যত্র পদায়ন করা হয়। এতে থানার ওসির পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। তবে ৩১ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন ওসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এসআই মো. নুর হোসেনকে ওসির দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত চার মাস ধরে থানায় ওসি তদন্ত না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদন্তের দায়িত্ব পালন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুনামগঞ্জ জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুরে থানার গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি রাতে চুরির ঘটনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাও তৈরি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, থানার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উপজেলার বাসিন্দা হেকিম মিয়া বলেন, “গত এক মাস ধরে থানায় ওসি নেই, আর চার মাস ধরে নেই ওসি তদন্ত। একটি থানার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় এই দুই কর্মকর্তার ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আমরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
আরেক বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, “এই উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ প্রবাসী। থানার গুরুত্বপূর্ণ দুই কর্মকর্তা না থাকায় এলাকায় চুরি বেড়েছে বলে আমরা মনে করছি। সন্ধ্যার পর মানুষ আতঙ্কে থাকে। আমাদের দাবি, দ্রুত জগন্নাথপুর থানায় ওসি ও ওসি তদন্ত নিয়োগ দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই মো. নুর হোসেন বলেন, “থানায় এক মাস ধরে ওসি নেই। এ কারণে আমি ওসির দায়িত্ব পালন করছি।”
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জানিয়েছেন, জগন্নাথপুর থানায় দ্রুত ওসি ও ওসি তদন্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে থানার গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ শূন্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
-টিএস