একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, চুমু দেওয়া একজন শিক্ষক কিংবা রাজনৈতিক নেতার কাজ নয়। টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ওই মাদ্রাসার এক অভিযুক্ত শিক্ষকের চুমু দেওয়া এবং পরে শিশুটির বাবার ওই শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেক বাবা-মাকে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাশিক্ষাবিরোধী প্রচারণাও চালাচ্ছেন। তবে কোনো ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। শিশুটির বাবাও তাঁর বক্তব্যে একই বিষয় তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেন, দেশের মাদ্রাসাশিক্ষকেরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার খুঁজে বের করতে প্রতিবাদ জানাবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, সন্তান প্রত্যেক বাবা-মায়ের কাছে পবিত্র আমানত। এই আমানতের প্রতি কেউ কুনজর দিলে বাবা-মায়ের ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে তাঁর অভিযোগ, একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ওই নেতা হয়তো শিশু বা অন্য কারও প্রতি স্বাভাবিক আদর কিংবা ভালোবাসা প্রকাশের জন্য চুমু দেন। কিন্তু তাঁর আচরণে প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ একইভাবে আবেগ প্রকাশ করলে কিংবা সুযোগসন্ধানী কেউ শিশুদের প্রতি কুনজর দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা টঙ্গীর ঘটনায় দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ওই দলের প্রধান নেতা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে চুমু দিয়ে ভালোবাসা বা আদর প্রকাশ করেন- এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে বর্তমান বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটে এ ধরনের চুমু শিশু কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। টঙ্গীর ঘটনার পর ওই দলের প্রধান নেতাও নিজের আচরণ সংশোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন।
-টিএস