গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ ২০ হাজার কি: মি: নদী খনন প্রকল্প চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়েছে। এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন।
নাগরিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা-পদ্মা (ফারাক্কা) পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। যদিও ইতোমধ্যে সরকার ডিসেম্বরের মধ্যেই গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে ঘোষণা করেছেন; চুক্তির পরবর্তী ফলাফল নিবেচনায় আমরাও এর সাথে একমত হয়ে এ চুক্তি নবায়নে ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের করা প্রথমবারের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজসহ পানি, কৃষি, পরিবেশ, শক্তি, অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই চুক্তি করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে অভিন্ন ২২১টি (সরকারি হিসেবে ৫৪টি) নদ নদী রয়েছে। (যার মধ্যে ২৩টি বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে পতিত হয়েছে আর ৭টি ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।) এ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে একটি দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি/সমঝোতা করতে আহবান জানানো হয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিক্ত প্রকল্প ২০২৭ সালে মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নে যেন পানি, কৃষি, পরিবেশ, শক্তি, অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় আর প্রকল্পের ডিজাইন এমনভাবে করা হয় যাতে সেটা যেন অর্থ উপাজনের উৎস হিসেবে কাজ করে। তিস্তা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারেজের মতো এ ধরনের প্রকল্প অন্যান্য বড় বড় অভিন্ন নদীতে বাস্তবায়ন করা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে আহবান জানানো হয়।
সরকার ঘোষিত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়াতে, সুপেয় পানির আধার তৈরি করতে এবং খরা মোকাবেলায় সেচ সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশে যে ২,৪১৩টি 'জীবন্ত সত্তা' নদ নদী রয়েছে তার মধ্যে থেকে ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী ও খাল 'খনন ও পুনরুদ্ধারের' আওতায় আনা হবে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই কিন্তু তার পূর্বে 'জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন" কর্তৃক চিহ্নিত প্রায় ৬০ হাজার নদী দখলদারের ব্যাপারে অবিলম্বে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং দখলের পাশাপাশি যে সকল শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নদী দূষণে লিপ্ত তাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে ETP (বর্জ্য শোধনাগার) স্থাপনে বাধ্য করতে হবে।
নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্দ্যেগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো: আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, প্রকৌশলী ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. মহসীন আলী মন্ডল প্রিন্স ও মিহির বিশ্বাস; যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ, মো. তাজুল ইসলাম, কালিমুল্লাহ ইকবাল ও ডা. বোরহান অরণ্য।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জীববৈচিত্র্য সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাসিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মহসীনুল করিম লেবু, গাজীপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জামান ভূঞা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মো. আজম খান, আব্দুল হালিম সরকার, প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক, শামীম মোহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, সিরাজুল ইসলাম নান্নু, অ্যাডভোকেট আলী আজম সুমন, প্রকৌশলী শাহরিয়ার আজিম সুজন ও মো. মিজানুর রহমান খানসহ অন্যরা।
টিআই