বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড শবজবাড়ী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব দাবি উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। এতে দেশের ৬৪ জেলার বিশিষ্ট আলেম, ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মীয় অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাদপন্থীদের আসন্ন ইজতেমা আয়োজনের জন্য টঙ্গীর ময়দান তিন দিন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী আলেম ও মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দাবি দুটি হলো, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা, মারকাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজন করতে ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় আরও বলা হয়, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকার কথাও জানানো হয়।
জাতীয় পরামর্শ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী ও মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
-টিএস