জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকার সাভারে পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে ফেলে শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনসহ ২২ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। একই প্যানেল গত ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানির এ দিন ঠিক করে আদেশ দেন।
ওইদিন মামলায় সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদন করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, শহিদুল ইসলাম সরদার, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিন মামলার আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা সাত আসামিকে ওইদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক ১৩ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাভারের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২৬ জুলাই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজামান, সাবেক পরিদর্শক এ এফ এম সায়েদ, সাবেক এএসআই মোহাম্মদ আলী, সাবেক নায়েক মো. সুহেল মিয়া ও সাবেক কনস্টেবল মো. মাহফুজ মিয়া।
এছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাভারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেহেদী হাসান তুষার, সাভারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস মো. রাজু আহম্মেদ, বনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফরিদ, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জামান খাঁন, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান এবং শরফ আশরাফুল আলম।
যেভাবে নিহত হন ইয়ামিন
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলন চলাকালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন। ওইদিন সাভারে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের ওপর ইয়ামিনের নিথর দেহ রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই সময় সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় আরও অনেকে নিহত হন। মামলার অভিযোগে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় মোট ২২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়ামিন এমআইএসটির ওসমানী হলে থাকতেন।
এসএ