প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমান বিশ্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বজুড়ে পরিচয়কেন্দ্রিক সংঘাত, ধর্মীয় বিভাজন ও বর্ণবৈষম্য থেকে উত্তরণে লালনের মানবতাবাদী দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের পরিচয়কেন্দ্রিক সংঘাত বাড়ছে। মানুষ ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদে জড়িয়ে পড়ছে। সাদা-কালো, মুসলিম-হিন্দু কিংবা ইহুদি-মুসলিম পরিচয়ের বিভাজনকে ঘিরে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় লালনের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, ফকির লালন জাত, ধর্ম ও লিঙ্গসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। মানুষের পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবে তার মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমান বিশ্বে অশান্তি ও বিভেদের যেসব কারণ রয়েছে, লালনের দর্শন সেসব সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষা স্কুল পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ুক। নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের জীবন, চিন্তা ও মানবতাবাদী দর্শন পৌঁছে দিতে সরকার উদ্যোগ নিতে আগ্রহী।
তিনি জানান, তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে লালন উৎসব উদযাপন নিয়ে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, তা নিয়েও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
জাহেদ উর রহমানের মতে, লালনের দর্শনকে শুধু উৎসব বা স্মরণানুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের মানসিকতা বিকাশে লালনের জীবন ও দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী।
-টিএস/এসএম জামাল