সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ১৫ জনকে দেওয়া হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে ওই আদেশের ভিত্তিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরার সুযোগ আর থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার নৌযানের ১৫ জন লাইসেন্সধারী রিট করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মাছ ধরতে গেলে কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের হয়রানি করে এবং মাছ ও জাল আটকে দেয়। তবে তারা যে পদ্ধতিতে মাছ ধরেন, তা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ-এ বিষয়টি আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রিটের শুনানি শেষে গত ৬ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন, যাতে রিটকারীদের মাছ ধরতে বাধা দেওয়া না হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমানে ইলিশ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও হাইকোর্টের আদেশ দেখিয়ে রিটকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছিলেন। এর ফলে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রেও ওই আদেশ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে হাইকোর্টের দেওয়া ওই সুবিধা আর থাকছে না। এখন ওই আদেশের ভিত্তিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরার সুযোগ নেই।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ বলেন, রিটকারীরা বেহুন্দি জাল ও ভাসমান জাল ব্যবহার করে পরিবর্তিত ট্রলারের মাধ্যমে মাছ ধরার অনুমতি চেয়েছিলেন। তার দাবি, বেহুন্দি জাল ব্যবহার ২০১৩ সাল থেকে নিষিদ্ধ এবং ২০২০ সাল থেকে ইলিশ আহরণে ভাসমান জাল ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব তথ্য গোপন করে রিট করা হয়েছিল। হাইকোর্টের আদেশের সুরক্ষা নিয়ে রিটকারীরা ইলিশও ধরছিলেন। কোস্টগার্ড ও পুলিশ বাধা দিলে তারা আদালতের আদেশ দেখাতেন, ফলে মাছ ধরা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
টিআই