ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে ধর্মীয় বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। একটি গোষ্ঠী দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। বর্তমানে তারা দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই সরকারের কার্যক্রমের কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন। এতে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে শুরু করেছে।”
বৃহস্পতিবার হাটহাজারীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে জিআর চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধান অতিথি উপজেলার ১২৪টি পূজামণ্ডপ এবং বিভিন্ন বৌদ্ধমন্দিরের প্রতিনিধিদের মধ্যে জিআর চালের ডিও বিতরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাটহাজারীতে দেশের সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার পাশাপাশি কালীমন্দিরের অবস্থান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসবে দেশের সব ধর্মের মানুষ একাকার হয়ে আনন্দে অংশ নেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন সমিতি চত্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমিতির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত।
ইউএন/আরএন