আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের কারখানার ভবন থেকে পড়ে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইসমাইল হোসেন ও তাঁর ছেলে পরিচালক শারাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে জামাল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত শারমিন গ্রুপের বহুতল কারখানা ভবনে গত ১৪ অক্টোবর সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত জামাল উদ্দিন (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুর সদর থানার উত্তর পূর্বরিয়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম সেকান্দার আলী খান।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী ইস্কান্দার আলী খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৮টায় জামাল কর্মস্থলে যোগ দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, তিনি কারখানার ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে স্বজনেরা আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে জামালকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান তাঁর ভাই। পরিবারের দাবি, ঘটনার বিবরণ এবং তাঁদের খবর দেওয়ার ধরন নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে নিহতের ভাই ইস্কান্দার আলী বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন এবং তাঁর ছেলে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শারাফ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলায় আসামি করা হলেও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে কারখানার ভেতরে জামালের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষের খারাপ আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে জামাল চরম মানসিক চাপে ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী সাবিকুন নাহারকেও মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিবরণে জামালকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কোনো কোনো বিবরণে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো, থাপ্পড় মারা এবং আটকে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
-টিএস